ডেস্ক নিউজ

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সশস্ত্র তৎপরতা। রাতের আঁধারে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাঘুরি, পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান আর টহল দলের ওপর নজরদারি। এসব ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ রোহিঙ্গারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্যাম্প-৭ কেন্দ্রিক কেফায়েত উল্লাহ ওরফে আব্দুল হালিম বাহিনীর সদস্যরা সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যেই শক্তি প্রদর্শন করছে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, গত বুধবার গভীর রাতে কুতুপালং ক্যাম্পের মারকাজ পাহাড় এলাকায় ৮ থেকে ১০ জন সশস্ত্র যুবককে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোহিঙ্গা যুবক বলেন, “রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে তারা পাহাড়ে ছিল। দূর থেকে মনে হচ্ছিল তারা এপিবিএনের টহল টিমের গতিবিধি নজরদারি করছে।” একই রাতে ক্যাম্প-২ ইস্ট ও ক্যাম্প-১ এর বিভিন্ন ব্লকেও কোমরে অস্ত্র গুঁজে তাদের অবাধ চলাফেরা করতে দেখা যায় বলে দাবি করেন একাধিক বাসিন্দা।

ক্যাম্পবাসীদের একাংশের ভাষ্য, এই তৎপরতা নিছক উপস্থিতি জানান দেওয়া নয়। এর পেছনে রয়েছে নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের হিসাব-নিকাশ। উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৫ দীর্ঘদিন ধরে আরসা নিয়ন্ত্রিত বলে পরিচিত। সেখানে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন লব্বয় সলিম নামে এক আরসা কমান্ডার।

তবে গত ঈদুল ফিতরের রাতে ক্যাম্প-১৫ এ সলিমকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় আনোয়ার ইসলাম বাপ্পী নামের এক যুবককে দেখা গেছে। যিনি হালিম গ্রুপের স্থানীয় কমান্ডার হিসেবে পরিচিত। এতে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতেই এ হামলা। যা ক্যাম্পের ভেতরে নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ক্যাম্প-১ এর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “প্রত্যাবাসনের কথা উঠলেই ক্যাম্পে গোলমাল শুরু হয়। যারা ফিরে যেতে চায় বা এ বিষয়ে কাজ করে, তাদের ভয় দেখানো হয়।” তিনি দাবি করেন, অতীতে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিব উল্লাহ হত্যার ঘটনাও একই ধরনের প্রেক্ষাপটে ঘটেছিল।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এবারও প্রত্যাবাসনপন্থী নেতাদের টার্গেট করা হতে পারে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কুতুপালং ক্যাম্পে জিয়া, শাকের, মাহমুদ উল্লাহ জোবাইর ও আকবরের নেতৃত্বে সশস্ত্র মহড়া দেখা গেছে। অন্যদিকে বালুখালী এলাকার ক্যাম্পগুলোতে তাকি, ফারুক, হাফেজ সাইফুল, জসিম ও ইউনুসের নেতৃত্বে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, এসব গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত। সাম্প্রতিক এই প্রকাশ্য উপস্থিতি সেই ভয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ক্যাম্পের ভেতরে বসবাসকারী অনেকেই বলছেন, সন্ধ্যার পর থেকেই ভীতি কাজ করে। অচেনা সশস্ত্র লোকজনের আনাগোনা বাড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্যাম্পের ভেতরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় থাকায় পরিস্থিতি যেকোনো সময় সহিংস রূপ নিতে পারে। এ অবস্থায় নজরদারি জোরদার এবং কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ক্যাম্পের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠতে পারে।

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) সিরাজ আমিন বলেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনো ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড সহ্য করা হয় না। সংগঠিত সন্ত্রাসী বাহিনী থাকার বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তারপরও অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে।”